সাফল্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ম্যাসাচুসেটস বায়োটেকনোলজি সংস্থার (মর্ডানা) তৈরি ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর উপরে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছিল। তারা প্রত্যেকেই সুস্থ ও নিরাপদ আছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনকে গবেষক দল জানিয়েছে, যে সব স্বেচ্ছাসেবীদের এই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে দেখা গিয়েছে ভাইরাস-কিলিং অ্যান্টিবডির মাত্রা অনেক বেশি। করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষদের গড় অ্যান্টিবডির মাত্রার থেকেও বেশি।

কোনও স্বেচ্ছাসেবীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। কিছু স্বেচ্ছাসেবী জানিয়েছেন, তাদের সামান্য মাথা ব্যথা, পেশিতে ব্যথার মতো কিছু সমস্যা হয়েছে। এছাড়া সবাই সুস্থ আছেন।

মডার্না প্রথম মানব শরীরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করেছিল গত ১৬ মার্চ। ৬৬ দিন পরে ওই ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়ালের রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে।

জানুয়ারিতে কোভিড-১৯ এর জেনেটিক সিকোয়েন্স প্রকাশের ঠিক আট সপ্তাহের মাথায় ১৬ মার্চ মর্ডানার এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিনের প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রায়ালে ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবকে এ ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে। প্রথম পর্যায়ের এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরে ভ্যাকসিনর দু’টি ডোজ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে মডার্না জানিয়েছে, প্রাথমিক ফল ইতিবাচক।

যাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তাদের স্যাম্পল ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তা ভাইরাসের বংশবিস্তার ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম। প্রত্যেকের শরীরেই করোনাভাইরাসের ‘নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি’ এমন মাত্রায় তৈরি হয়েছে, যা এ ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের দেহে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির সমান বা তার চেয়ে বেশি।

মডার্না জানায়, শেষ ধাপের পরীক্ষার জন্য ভ্যাকসিনের ডোজের ১০০ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। চূড়ান্ত পরীক্ষা সফল হলে এ ডোজের মাত্রা অনুসারে কোম্পানিটি প্রতিবছর ৫০০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবে। তবে ২০২১ সালের শুরু থেকে সুইডেনের ওষুধ নির্মাতা লঞ্জার সঙ্গে যৌথভাবে ১০০ কোটি ডোজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। এ ভ্যাকসিন তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে মডার্না।