কভিড সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টি-সেল: গবেষণা

করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি বেশি দিন থাকছে না, কয়েকটি গবেষণার এমন ফলাফল শুনে যারা চিন্তিত তাদের জন্য টি-সেল সংক্রান্ত আশার খবর দিচ্ছেন ফ্রান্সিস ক্রিক ইন্সটিটিউটের গবেষকেরা। তারা জানিয়েছেন, এই টি-সেলের কারণে করোনা থেকে সেরে ওঠার পর মানুষ দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে পারবেন। খবর বিবিসির।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত লন্ডনের কিংস কলেজের ইমিউনোরজির অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হেডে বলছেন, ‘২০০২ সালে যে সার্স ভাইরাস ছড়িয়েছিল, তাতে যারা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের দেহে কয়েক বছর পরও গবেষকরা টি-সেলের অস্তিত্ব পেয়েছিলেন।’

‘তার মানে হলো এই লোকেরা সেরে ওঠার অনেক পরেও টি-সেল বহন করছিলেন।’

অনেকের দেহেই অ্যান্টিবডি নেই, কিন্তু টি-সেল আছে। বেশ কিছুদিন ধরে এমন আভাস পাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা।

এর পর এমন কিছু কভিড-১৯ রোগীরও সন্ধান পাওয়া যায়, যাদের দেহের অ্যান্টিবডি কয়েক মাসের মধ্যেই অদৃশ্য হয়ে গেছে।

তখন বিজ্ঞানীদের ধারণা হয় যে করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে হলে টি-সেলই ভরসা হতে পারে।

টি-সেল ও অ্যান্টিবডি: একজন মানুষ যখন কোনো ভাইরাসে সংক্রমিত হন, তখন শরীর ওই ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে রক্তে যে উপাদান তৈরি করে তাকে অ্যান্টিবডি বলা হয়। কভিড-১৯’র ক্ষেত্রে অনেকের শরীরে আপনা-আপনি অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। অনেকের আবার হচ্ছে না।

একইভাবে আমাদের ‘অভিযোজিত’ রোগপ্রতিরোধক ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘টি-সেল’।

অ্যান্টিবডি তৈরি হয় বি-সেল দ্বারা। টি-সেল কিছুটা অন্য রকম। এরা অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ভাইরাসে সংক্রমিত মানবকোষকে ‘আক্রমণ’ করে। হাম এবং সাধারণ ঠাণ্ডাজনিত রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই সেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একজন মানুষ যখন সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠেন, তখন তার শরীরে সে সেল থেকে যায়, তাকে চিকিৎসকেরা ‘মেমোরি’ সেল বলেন। এর মধ্যে টি-সেলও পড়ে। ভাইরাস আবার আমাদের আক্রমণ করলে এরা প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকে।