পুলিশ বক্সে বোমা হামলা: নব্য জেএমবির আরেক ‘সদস্য’ গ্রেফতার

চট্টগ্রামে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বোমা হামলার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। পুলিশের দাবি, তিনি নব্য জেএমবির সদস্য। মঙ্গলবার ভোরে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার হারবাং দফাদার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মোহাম্মদ শাহেদ (২০) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠ মিস্ত্রি। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের দুই নম্বর গেইট ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পথচারী আহত হন।

এ প্রসঙ্গে ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক আফতাব হোসেন বলেন, এর আগে গ্রেফতার তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছিল তাদের একজন শাহেদ। পুলিশ বক্সে বিস্ফোরিত বোমাটি লোহাগাড়া থেকে যে পাঁচজন নিয়ে এসেছিল তাদের মধ্যে শাহেদও ছিল। অবস্থান শনাক্তের পর তার বোনের শ্বশুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে কিভাবে জঙ্গিবাদে দীক্ষিত হয়েছে এ বিষয়ে এখনো কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হবে।

একই ঘটনায় গত ৩ মে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তারা হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৮ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. এমরান, বেসরকারি ন্যাশনাল পলিটেকনিক নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইলের ৭ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আবু সালেহ ও নগরের চকবাজার নুরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কম্পিউটারের দোকানের কর্মচারি সাইফুল্লাহ।

গ্রেফতার মো. সাইফুল্লাহ ও মো. এমরান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছিল, তারা সেলিম উদ্দিন, জহির ও আকিব নামের তিন জঙ্গির মাধ্যমে এবং আবু সালেহ সাইফুল্লাহর মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। ঘটনার দিন সেলিম উদ্দিন, আবু সাদেকসহ আরো তিন জঙ্গি নগরের পূর্ব নাসিরাবাদ আপন নিবাস এলাকার গিরি নিবাস নামে একটি ভবনে মো. এমরানের বাসায় আসে। ওইদিন জুমার নামাজের পর কয়েকটি এলাকা রেকি করে তারা। একপর্যায়ে ২ নম্বর গেইট এলাকার পুলিশ বক্স হামলার জন্য নির্দিষ্ট করে। আইইডি বোমা কিভাবে দূর থেকে রিমোট দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে তা প্রশিক্ষণ দিয়ে রিমোটটি এমরানকে দিয়ে যায় সেলিম। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অগোচরে আইইডিটি পুলিশ বক্সে রেখে যায় আবু সাদেক। পরে এমরানকে ফোনে জানায়। এমরান ভয়ে বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে রিমোটটি আপন নিবাসের সামনের ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। পরে সাইফুল্লাহ এসে এমরানের সহায়তায় ডাস্টবিন থেকে রিমোটটি সংগ্রহ করে। এরপর পুলিশ বক্সের অদূরে যাত্রী ছাউনির পাশে দাঁড়িয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে রিমোট দিয়ে আইইডিটি বিস্ফোরণ ঘটায় সাইফুল্লাহ। এরপর তারা পালিয়ে যায়।