মডার্নার ভ্যাকসিনের দাম পড়বে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা!

করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে অনেক দূর এগিয়েছে আমেরিকান বায়োটেকনোলজি কোম্পানি মডার্না। তাদের উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাজারে আসলে প্রতি দুই ডোজ কোর্স ভ্যাকসিনের দাম ৫০ থেকে ৬০ ডলার হতে পারে বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তাই হলে বাংলাদেশি টাকায় এই ভ্যাকসিনের প্রতি কোর্সের দাম পড়তে পারে (প্রতি ডলারে ৮৪ টাকা) ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা।

প্রস্তাবিত এই মূল্য ঠিক থাকলে প্রতিযোগিতায় থাকা আমেরিকান আরেক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজার ইনকর্পোরেশন ও জার্মানির বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন থেকে মডার্নার ভ্যাকসিনের দাম পড়বে অন্তত ১১ ডলার বেশি।

বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ফাইজার ও বায়োটেক ২০০ কোটি ডলারের যৌথ চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিনের ব্যাপক সংখ্যক ডোজ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। এতে ৫ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনের জোগান দেওয়া যাবে।

তাদের উৎপাদিত ভ্যাকসিন শেষ পর্যন্ত সফল হলে প্রতি দুই ডোজ কোর্স ৩৯ ডলার মূল্যে কিনবে বলে প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

সে হিসেবে মডার্নার ভ্যাকসিন কিনতে হলে অনেক বেশি অর্থ গুণতে হবে গ্রাহককে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে অবশ্য জানা গেছে, তাদের ভ্যাকসিনের প্রস্তাবিত এই দাম কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশগুলোর জন্য।

মডার্নার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, করোনা দমনে তাদের ‘এমআরএনএ-১২৭৩’ নামক ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য সংখ্যক জোগান দেওয়া নিয়ে সরকারগুলোর সঙ্গে তাদের কোম্পানির আলোচনা চলছে। তবে গোপনীয়তার কারণে ভ্যাকসিনের দাম কেমন হবে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য জানাননি ওই মুখপাত্র।

এ ব্যাপারে জ্ঞাত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছেন, মডার্নার কভিড ভ্যাকসিনের দাম এখনও ঠিক করা হয়নি।

বিশ্বজুড়ে এরই মধ্যে সাড়ে ৬ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনাভাইরাস দমাতে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে চেষ্টায় আছে অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত কোনো খবর আসেনি।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফাইজার, মডার্না ও মেরক অ্যান্ড কোং জানিয়েছে, ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারলে লাভ নিশ্চিত করেই বিক্রি করবে তারা।

অন্যদিকে, জনসন অ্যান্ড জনসনসহ বেশ কিছু ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়েছে, লাভের চিন্তা করে এই ভ্যাকসিন বিক্রির পরিকল্পনা নেই তাদের।