সাহেদকে নিয়ে লাবন্যবতী নদীর তীরে র‌্যাব

করোনার সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে সাতক্ষীরার দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের শাখরা কোমরপুরের গ্রেপ্তারের স্থানে নিয়ে গিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ১১মিনিটে লাবন্যবতী নদীর ওপর নির্মিত কোমরপুরের বেইলি ব্রিজে তাকে নিয়ে আসে র‌্যাব। এরপর উৎসুক সাধারণ মানুষকে সরিয়ে স্থানীয় ক্যামেরাপারসন ও সাংবাদিকদের ব্রিজ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে সরিয়ে ৫-৭ মিনিট কথা বলে আবার গাড়িতে ওঠানো হয় সাহেদকে।

এ সময় সাহেদের মুখমণ্ডল ছিল হেলমেটে ঢাকা, গায়ে ছিল গেঞ্জি ও র‌্যাবের নিরাপত্তা জ্যাকেট। ব্রিজের ওপর থেকেই আবার গাড়িতে উঠিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় র‌্যাব।

তদন্তের স্বার্থে র‌্যাব উপস্থিত সংবাদকর্মীদের প্রশ্ন না করতে অনুরোধ জানান।

৬ জুলাই ঢাকার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। করোনা প্রতারণাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ওই হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ তখন থেকেই পলাতক ছিলেন। এ সময়ে সাহেদ নানাভাবে চেষ্টা করেছেন নিজেকে রক্ষার। যোগাযোগ করেছেন প্রভাবশালীদের সঙ্গে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর সীমান্তের লাবন্যবতী নদীর ওপর নির্মিত ব্রেইলি ব্রিজের নিচ থেকে সাহেদকে বোরখা পরিহিত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ভারত পালানোর সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় র‍্যাব। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় অস্ত্র আইনে মামলা করে র‌্যাব।

সোমবার সন্ধ্যায় সাহেদকে ঢাকা থেকে খুলনা র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে আনা হয়। এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতক্ষীরার ভার্চুয়াল আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত ২৬ জুলাই আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার রায় শুনানি শেষে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।