৪০ দিন পরও করোনা পজিটিভ!

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পর পেরিয়ে গেছে ৪০ দিন। একে একে চারবার নমুনা পরীক্ষা করানো হয়েছে; কিন্তু প্রতিবারই করোনা পজিটিভ হয়েছেন রাজশাহীর তরুণ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান নূর। সর্বশেষ বুধবার (২৯ জুলাই) পাওয়া চতুর্থবারের ফলাফলেও তার করোনা পজিটিভ আসে।

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান নূর স্থানীয় দৈনিক সানশাইনের স্টাফ রিপোর্টার ও রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির (আরসিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক।

জানা গেছে, ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে করোনার সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। ইতোপূর্বে তিনবার তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। গত মঙ্গলবার চতুর্থবার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করেন। একদিন পর গতকাল আবারও তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে এই সময়ে তার তেমন কোনো উপসর্গ বা শারীরিক অসুবিধা দেখা দেয়নি।

আসাদুজ্জামান নূর জানান, গত ১৪ ও ১৫ জুন শরীরে হালকা জ্বর অনুভব করেন তিনি। সেদিন থেকেই স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী ছিলেন। এরপর ১৮ জুন করোনা পরীক্ষার জন্য সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে নমুনা প্রদান করেন। ২ দিন পর ২০ জুন প্রকাশিত রিপোর্টে প্রথমবার তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।

এরপর থেকে তিনি হোম আইসোলেশনে ছিলেন। এর প্রায় ২২ দিন পর ১২ জুলাই তিনি দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ৬ দিন পর ১৮ জুলাই প্রকাশিত রিপোর্টে আবারও তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এতে তিনি ও তার চিকিৎসক কিছুটা বিচলিত হন। কারণ; একই দিন করোনা আক্রান্ত অন্যদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসলেও শুধু তারই করোনা পজিটিভ আসে।

পরীক্ষাটি সঠিক হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক্তারের পরামর্শে তিনি একদিন পরেই ২০ জুলাই আবারও করোনা পরীক্ষা করান। সেবারও তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে।

তৃতীয়বারেও করোনা পজিটিভ হওয়ায় নূরের লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। যতই দিন যাচ্ছিল ততই বাড়ছিল মানসিক চাপ। কারণ গ্রামে বসবাসকারী বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনকে জানাতে পারছিলেন না তিনি এখনও করোনা পজিটিভ! এভাবে চলতে থাকে ঘরবন্দী জীবন। এরপর গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) চতুর্থবার পরীক্ষার জন্য নমুনা প্রদান করেন তিনি। এবারও বিধি বাম; আবারও করোনা পজিটিভ হয়েছেন তিনি।

এদিকে, করোনার শুরু থেকে রাজশাহীতে চিকিৎসা প্রদানকারী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু ইউসুফ বলেন, মানব শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। উনার শরীরে ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ভাইরাস রয়েছেন; কিন্তু কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে না। এক্ষেত্রে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ৪০ দিন পার হওয়ার পরে বিপদের আশঙ্কা খুব একটা থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।