‘শিবলিঙ্গে কন্ডোম’ বিতর্কে সায়নীর বিরুদ্ধে মামলা

হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত করার দায়ে টলিউড অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।

তথাগত রায় তার টুইটারে অভিযোগপত্রের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে জানা যায়—২০১৫ সালে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ তার টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি গ্রাফিক শেয়ার করেছিলেন।

এটি শিবলিঙ্গের ছবি ছিল। তাতে কন্ডোম পরাচ্ছে এক নারী। গ্রাফিক থেকে বোঝা যাচ্ছে, মহিলাকে এইডস সচেতনতার বিজ্ঞাপনের ম্যাসকট ‘বুলাদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রাফিকের ভেতরে লেখা, ‘বুলাদির শিবরাত্রি’। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারেন না ঈশ্বর।’

অভিযোগপত্রে লেখা, ‘আমি শিবের ভক্ত। ১৯৯৬ সালে শিবের পূজা দেওয়ার জন্য পায়ে হেঁটে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা করেছিলাম। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের ছবিটি দেখে আমার ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে।
আমার আর্জি, আপনারা এই বিষয়ে তদন্ত করে সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সায়নী ঘোষ। এক টুইটে তিনি জানিয়েছেন—২০১৫ সালে তার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করার পর তিনি এই ছবি সরিয়ে ফেলেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কখনো কারো ধর্মকে তিনি আঘাত করতে চাননি। তার ভাষায়, ‘আমি আগেই বলেছি যে, ২০১৫ সালের টুইটটির বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম।

যেই মুহূর্তে সেটি আমার নজরে আসে সঙ্গে সঙ্গে আমি তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে টুইটটি ডিলিট করি। এতদিন পর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যে বিদ্বেষের সম্মুখীন আমাকে হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

সায়নীর এই বক্তব্য বিশ্বাস করছেন না নেটিজেনরাও। তথাগত রায়ের পোস্টে অনেকে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন—‘আইনি পথ বেছে নিয়ে ভালো করেছেন স্যার। এর দাম সায়নীকে দিতেই হবে।’ কেউ কেউ হুমকি দিয়ে লিখেছেন‘ বাঙালি হিন্দুরা ঘুমিয়ে নেই। তারা যোগ্য জবাব দেবে।’ যদিও কেউ কেউ সায়নীর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

গত ১৪ জানুয়ারি একটি টিভি চ্যানেলে অতিথি বক্তা হিসেব উপস্থিত হয়েছিলেন সায়নী ঘোষ। সেখানে তিনি বলেছিলেন‘ যেভাবে জয় শ্রীরাম স্লোগানটিকে রণধ্বনিতে পরিণত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভুল। উপরন্তু, এটি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না। ঈশ্বরের নাম ভালোবেসে বলা উচিত।’ মূলত এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ৫ বছর আগের টুইটের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে নাম লেখান সায়নী। তিনি একজন সংগীতশিল্পীও। ২০১০ সালে ‘নটবর নট আউট’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন তিনি। পরের বছরই রাজ চক্রবর্তীর ‘শত্রু’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান। তবে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘কানামাছি’ সিনেমায় প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

সায়নী অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘অলিক সুখ’, ‘গল্প হলেও সত্যি’, ‘একলা চলো’, ‘মায়ের বিয়ে’, ‘রাজকাহিনি’, ‘ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা’, ‘মেঘনাধ বধ রহস্য’, ‘কিরিটি রায়’, ‘কে তুমি নন্দিনী’ প্রভৃতি। এছাড়া বেশ কিছু ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন সায়নী।