জমে উঠেছে জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচন

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ১৯৭৫ সালে জয়পুরহাট পৌরসভা স্থাপিত হয়। সেই সময় থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ধারাবাহিক চলে আসছে। আগামী ২৮ শে ফেব্রুয়ারী জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে।

জমে উঠেছে জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচন। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় মেয়র পদে এবার ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। প্রার্থীরা পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত এবং পৌরবাসীর দুঃখ-দুর্দশায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে জয়পুরহাট পৌরসভার ভোট গ্রহণ। এখানকার ভোটাররা প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার স্বাদ গ্রহণ করবেন। ভোট নিয়ে সব বয়সের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে। তবে, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া কতটুকু নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে। প্রতীক বরাদ্ধের পর থেকে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। সব মিলিয়ে সরগরম জয়পুরহাট তৃণমূলের রাজনীতি।

জয়পুরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৭০ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ৫২ হাজার ৪শ ৭৩জন । এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৮৩২ জন এবং মহিলা ভোটার ৭ হাজার ১০৩ জন।
সরেজমিনে জয়পুরহাট পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌর এলাকায় এখন নির্বাচনি হওয়া বইছে। প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ, পোস্টার সাঁটিয়ে, ব্যানার টানিয়ে ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনি মাঠে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার খবর জানাচ্ছেন। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলাচ্ছেন জোর প্রচার-প্রচারণা। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানও জমে উঠেছে নির্বাচনি আলোচনায়।
নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতাকারী ৫ জন হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যক্ষ সামছুল হক (ধানের শীষ), পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মাওঃ ডাঃ মুহাঃ জহুরুল ইসলাম,(হাত পাখা) মার্কা ,সতন্ত্র প্রার্থী হাসিবুল আলম (জগ) মার্কা, বেদারুল ইসলাম বেদিন (নারিকেল গাছ)মার্কার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।

জয়পুরহাট স্থানীয় রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সেই মতবিরোধ এখন আর চোখে পড়ছে না। দলের হাই কমান্ড এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা মোতাবেক দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন বলে দাবি নেতাকর্মীদের। ফলে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তক ও তার সমর্থকেরা।

করছেন সভা সমাবেশ, দিচ্ছেন আধুনিক পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি। দিন রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন সমর্থকরা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, প্রথমবার জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে আমি জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করছি। এই দায়িত্বে থাকাকালে আমি সাধারণ মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। গরীব এবং মেহনতি মানুষের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করেছি। পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ করছি,কিছু কিছু কাজ চলমান আছে, তাই এখানকার ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।

এদিকে, বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকলেও পৌর নির্বাচনে সবাই মতবিরোধ ভুলে দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তারা তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৌরসভার প্রতিটি ঘরে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের সালাম পৌঁছে দিচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন। তারা দেশে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন স্বাধীনতার পর থেকে জয়পুরহাট পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী বেশী বিজয় লাভ করছে এবং আগামীতে করবে।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যক্ষ সামছুল হক বলেন, ২০ বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। বর্তমান মেয়র ১মবার নির্বাচিত হওয়ার পরও জয়পুরহাট পৌরসভায় উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়ন করতে পারেননি। তিনি শুধু সাধারণ মানুষকে আশার কথা শুনিয়েছেন। আমি নির্বাচিত হলে, জয়পুরহাট পৌরসভা হবে দেশের অন্যতম একটি মডেল পৌরসভা। যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত বলে জানান তিনি। যেহেতু এ এলাকা ধানের ঘাঁটি। গতবারে আমার বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়েছে তারা।

জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী হাসিবুল হোসেন বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ এখনও ভালো আছে। তবে, জয়পুরহাট পৌর শহরে আমার কর্মী-সমর্থকেরা পোস্টার লাগিয়ে আসলে পরদিন সকালে আর দেখা যায় না। কে বা কারা রাতের কোনও এক সময় আমার ‘জগ’ মার্কার পোস্টার ছিড়ে ফেলছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছি। যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জয়পুরহাট পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকতা শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রভাবমুক্ত করার জন্য সব প্রস্ততি প্রায় সম্পন্ন। এরই মধ্যে ইভিএম-এ যেন সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেন সেই লক্ষ্যে এলাকায় লিফলেট বিতরণ, মাইকে প্রচার, করা হবে।

আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২২টি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ওয়ার্ডে ডামি ভোটিংয়ের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, জয়পুরহাট পৌরসভার নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোট কেন্দ্র ২২টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোট কেন্দ্র ১১টি, মহিলা ভোট কেন্দ্র ১১।