স্বামীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ!

চাঁদপুরে স্বামীর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণকারীদের বাধায় গৃহবধূ চিকিৎসা নিতে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে আসতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী।

এছাড়াও ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করলে গৃহবধূ ও তার স্বামীকে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শনিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটলেও সংবাদ কর্মীদের কাছে প্রকাশ পায় রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায়। চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪ নম্বর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড লক্ষ্মীর চরে এক কৃষকের ঘরের দরজা ভেঙে সাত-আটজন দুর্বৃত্ত ঘরের ভিতরে ঢুকে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। তবে এলাকার কিছু মানুষ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

এই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ধর্ষিতা গৃহবধূর কৃষক স্বামী বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আসমত আলী মিজি, বাবুল গাজী, ফয়সাল গাজী, রুহুলামিন মিজিসহ সাত-আটজন মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে। এ সময় তার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার স্ত্রীকে পাশের ঘরে জোরপূর্বক নিয়ে একের পর এক ধর্ষণ করে। এ সময় তিনজনের মুখোশ খোলা থাকায় তাদেরকে খুব সহজে চিনে ফেলেন গৃহবধূর স্বামী।

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনাটি রবিবার দুপুরে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গাজীসহ কয়েকজনকে জানালে তারা ধর্ষণকারী কয়েকজনকে এনে সালিশি বৈঠক করেন। পরে সবার উপস্থিতিতে তাদেরকে জুতাপেটা করে ছেড়ে দেয়া হয়।

গৃহবধূর স্বামী বলেন, এই ঘটনার পর অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধর্ষকরা বাধা দেন এবং ঘটনাটি অন্য কাউকে জানালে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ঘটনায় এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় পুরো পরিবার। যেকোনো সময় আবারও এই ধর্ষণকারীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। এই ঘটনায় ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বলেন, রাতের আঁধারে তারা ঘরে ঢুকে গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পাশের রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। তাদের হাতে পায়ে ধরে মাফ চাইলেও রেহাই না দিয়ে তারা নির্মমভাবে একের পর এক সবাই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সন্তান থাকায় নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি। এখন শুধু প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি, ধর্ষকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

সালিশি বৈঠকে অংশ নেয়া ওসমান গাজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বৈঠকের কথা অস্বীকার করে বলেন, গণধর্ষণের ঘটনাটি আমাকে জানায়নি। আমি সালিশি বৈঠক করিনি। যদি জানাতেন তাহলে সমাধান করে দিতাম। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগও আসেনি।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম উদ্দিন বলেন, এ ধরনের ঘটনার কথা শুনেছি। তবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।